এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক গৃহবধূর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের নিত্তিপোতা গ্রামের বাসিন্দা আলো খাতুন (২৭), স্বামী বাবুল মণ্ডল, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সুজন মিয়া (২৫), পিতা শহিদুল ইসলাম শহিদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত সুজন মিয়া বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি নানাভাবে উত্যক্ত ও বিরক্ত করতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখ দুপুরে নিজ বাড়ির টিনশেড গোসলখানায় গোসল করার সময় অভিযুক্ত সুজন মিয়া গোপনে স্মার্টফোনের মাধ্যমে তার ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও একাধিক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভাইরাল করার হুমকি দিতে থাকেন। গত ১৮ জুন সকালে ভুক্তভোগী অভিযুক্তের সঙ্গে দেখা করে ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বরং ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ভুক্তভোগী ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ধুনট থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কারও ব্যক্তিগত বা গোপনীয় মুহূর্ত অনুমতি ছাড়া ভিডিও বা ছবি ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার কিংবা প্রচারের হুমকি দেওয়া শুধু নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও এটি একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা মনে করেন, এ ধরনের ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার