দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
বগুড়া শহরে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা কখনও মুষলধারে, কখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে নগরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার পানি নিষ্কাশনের মুখ বন্ধ থাকায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দার, পার্ক রোড, নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়।
রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ায় রিকশা, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি ভেঙে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। একই সঙ্গে সাতমাথাসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানেও বৃষ্টির পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
জলাবদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে রাতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এ সময় তাঁর সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক জলাবদ্ধ এলাকায় হেঁটে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভুক্তভোগী নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজেই পানিতে নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা সরেজমিনে পর্যালোচনা করছেন। তাঁর এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ বিষয়ে প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, "বগুড়া শহরের জলাবদ্ধতা ও যানজট একদিনের সমস্যা নয়; এটি প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো সমস্যা। এ সমস্যার সমাধানে নগরবাসীর কাছে তিন মাস সময় চেয়েছি। সবার সহযোগিতা পেলে এই সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।"
তিনি আরও বলেন, শহরের অধিকাংশ ড্রেন ফাস্টফুডের পরিত্যক্ত প্যাকেট ও বিভিন্ন বর্জ্যে ভরে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বগুড়াকে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বগুড়া সিটি কর্পোরেশন যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজট কিছুটা কমলেও আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নগরবাসীর দুর্ভোগ নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে নাগরিকদের প্রত্যাশা, চলমান উচ্ছেদ অভিযানের মতো জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানেও সিটি কর্পোরেশন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার