এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩৯টি কারেন্ট জাল এবং একটি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই জাল ব্যবসায়ীকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা নিষিদ্ধ জালগুলো ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে ধুনট সদর হাটে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল- মামুন। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আরিফ আহমেদ, অফিস সহকারী রাকিব হাসান, ক্ষেত্র সহকারী রেজাউল করিম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল অবাধে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব জাল ব্যবহার করে নদী, খাল ও বিলে নির্বিচারে দেশীয় প্রজাতির মাছ, ডিমওয়ালা মাছ এবং রেণু-পোনা নিধন করা হচ্ছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে জাল বিক্রেতা মোখলেসুর রহমান ও রাকিব তালুকদারের কাছ থেকে ৩৯টি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং একটি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে দেশীয় মাছের প্রজননকাল হওয়ায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে বিপুল পরিমাণ রেণু-পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ ধ্বংস হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। তিনি নিষিদ্ধ জাল বিক্রি ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার