এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিদ্যুতের লাইনের সংযোগস্থলে শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একটি গোয়ালঘর ও একটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গোয়ালঘরে থাকা দুটি গাভি আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গত শনিবার (২০ জুন ২০২৬) রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর ঈশ্বরঘাট গ্রামে এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আপাস উদ্দিনের গোয়ালঘরের বিদ্যুতের তারের সংযোগস্থলে হঠাৎ শর্টসার্কিটের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত গোয়ালঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। এ সময় ভেতরে বাঁধা থাকা দুটি গাভিকে উদ্ধার করার সুযোগ না পাওয়ায় সেগুলো আগুনে পুড়ে মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বালতি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু গোয়ালঘরে থাকা খড়, কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাশেই অবস্থিত আপাস উদ্দিনের ছেলে রতন মিয়ার বসতবাড়িতেও আগুন লেগে যায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত রতন মিয়া বলেন, “আগুনে আমার বসতবাড়ির প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”
অপরদিকে আপাস উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা হতদরিদ্র মানুষ। দুটি গাভিই ছিল আমাদের পরিবারের প্রধান সম্বল ও আয়ের উৎস। আগুনে গাভি দুটিসহ গোয়ালঘর পুড়ে যাওয়ায় আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি বিধি অনুযায়ী সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
এদিকে আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত আর্থিক ও মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, গ্রামীণ এলাকায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরিদর্শন এবং নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার