এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মুন্নি খাতুন (৩৩) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা অভিযোগ তাঁর স্বামী নুর সালামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় তাঁর বাবা এরশাদ আলীকেও আসামি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে এজাহার সূত্রে জানা গেছে।
নিহত মুন্নি খাতুন শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী নুর সালাম। প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে সাগর হোসেন (১৬) ও সূর্য্য (১১) নামে তাঁদের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে মুন্নির বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সম্প্রতি তাঁরা ধুনটের মধুপুর গ্রামে আলতাফ হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন দুপুরে মুন্নি ভাড়া বাড়ির বাইরে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তাঁর স্বামী নুর সালাম ও শ্বশুর এরশাদ আলী সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এরশাদ আলী তাঁকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, পরে নুর সালাম তাঁর স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর তাঁকে মারধর করে গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ধুনট থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় সীমানাপ্রাচীর টপকে ঘরের টিনের চাল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় রান্নাঘরের সামনে মেঝেতে মুন্নির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে পাশের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে সেখান থেকে অভিযুক্ত নুর সালামকে আটক করা হয়।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে তাঁদের উপস্থিতিতে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে নুর সালাম ও তাঁর বাবা এরশাদ আলীকে আসামি করে ধুনট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এফআইআর নম্বর ১৯ এবং জিআর নম্বর ২০৩ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত নুর সালামকে আটক করে। পরে নিহতের মায়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বগুড়া জেলা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার