এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ যাঁরা সমাজ গঠনের অগ্রদূত এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, পরিবেশ সচেতনতা ও আইন মেনে চলার শিক্ষা দেন, সেই একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেই এবার ঐতিহাসিক করতোয়া নদীর জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নবগঠিত মোকামতলা এলাকার মেদিনীপুর গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে নদীর অববাহিকা ও নদীর অংশবিশেষ দখল করে তিনতলা পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুজিয়া বাজার ও বন্দরসংলগ্ন করতোয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় সম্প্রতি দ্রুতগতিতে একটি তিনতলা কংক্রিটের ভবন নির্মাণকাজ চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটি নদীর সীমানা ও অববাহিকার অংশ দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত আজিজুল হক বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল বিভাগের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট, দখল ও দূষণের কারণে করতোয়া নদী অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নদীর জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের জন্য আরও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নদী দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, “নদীর জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করছি কি না, সেটি দেখার বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। স্থানীয় ব্যক্তি বা গণমাধ্যমের নয়।” তাঁর এ বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, “নদী দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা আছে। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার আইনি ক্ষমতা আমার নেই। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”
নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, “নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশবাদী ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের নদ-নদী রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নদী দখলের ঘটনা ঘটছে। করতোয়া নদীর ক্ষেত্রেও যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে নদীর অস্তিত্ব ও পরিবেশগত ভারসাম্য আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, নদীর সীমানা জরিপ করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে করতোয়া নদীকে রক্ষা করতে হবে। তাঁদের মতে, আইন সবার জন্য সমান -অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক, ব্যবসায়ী বা অন্য যে-ই হোন না কেন, নদী দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে করতোয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার