এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের অভিযানে একটি প্রাচীন কালো পাথরের (প্রাথমিকভাবে কষ্টিপাথর বলে ধারণা করা হচ্ছে) বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বহন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে এর প্রকৃত বয়স, নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক মূল্য নির্ধারণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) গভীর রাতে উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের দোপাড়া হিন্দুপাড়া এলাকায় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। দোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রী গোকুল চন্দ্র মালির ছেলে শ্রী দলু চন্দ্র মালি (৩৫) তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত স্থানে মূর্তিটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি তিনি শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় শ্রী দলু চন্দ্র মালি স্বেচ্ছায় মূর্তিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুলিশ মূর্তিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
শিবগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির প্রকৃত ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব নিরূপণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে মূর্তিটি থানা হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে অবহিত করায় শ্রী দলু চন্দ্র মালির প্রশংসা করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধ পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও মূর্তিটি উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মূর্তিটির প্রকৃত পরিচয়, সময়কাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার