এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতের রায় অমান্য করে জমিতে প্রবেশে বাধা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী মেহেদী হাসান (২১)।
এ ঘটনায় মেহেদী হাসান ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের সরুগ্রাম মৌজায় প্রায় ১৫৭ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারী মেহেদী হাসানের দাবি, তফসিলভুক্ত এসব জমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। খাজনা-খারিজ সম্পন্ন করার পর দীর্ঘদিন ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৩/৯৯ (অন্য), ১৪৩/২০০০ (আপিল) এবং ২৩৭/১৯৯১-৯২ নম্বর মামলায় তাদের পক্ষে রায় হয়।
লিখিত অভিযোগে মেহেদী হাসান দাবি করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি নিজ জমিতে গেলে আব্দুল কাদির সাকিদার (৫৪), মোতালিব সাকিদার (৫৬), শাপলা মন্ডল (৪৫), বাদশা মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দেন।
এ সময় বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর হামলার জন্য এগিয়ে আসেন এবং ওই জমিতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর মেহেদী হাসান ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, বর্তমানে তিনি ওই সম্পত্তিতে গেলে পুনরায় সংঘাত, শান্তিভঙ্গ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগপত্রে স্থানীয় সাক্ষী হিসেবে মইনুল হাসান সাদিক ও মজনু মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে উল্লেখ করা তফসিল অনুযায়ী, সম্পত্তিগুলো বগুড়া জেলার ধুনট থানার সরুগ্রাম মৌজার জে.এল. নং-০৭-এর আরএস খতিয়ান নং ৬৯০, ৬৯২ ও ৫২৪-এর অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বরগুলো হলো- ১৬০৮, ১৬১০, ১৬১১, ১৬২১, ১৬২৫, ১৬২৮, ১০১৪, ১০২৩, ১০২৫ ও ১০২৯। মোট জমির পরিমাণ ১৫৭ শতক।
ধুনট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগকারী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত শেষ হলে অভিযোগের সত্যতা এবং বিরোধের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার