এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একটি মারপিট মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার এবং মামলার সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তা চেয়ে ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাফেজ মো. কামরুজ্জামান উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামের তবিবুর রহমানের ছেলে।
মামলা ও থানা সূত্রে জানা যায়, হেউটনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে শাহিনুর রহমান, জিয়াউর রহমান, মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে আলম মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল ওয়াহেদ, ওহাবের স্ত্রী মোছা. শিরিনা খাতুনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে হাফেজ মো. কামরুজ্জামানকে মারপিট করে গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ধুনট আমলী আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি ধুনট থানায় মামলা নং-০২, তারিখ ০২ জুলাই ২০২৬, জিআর নং-১১৯/২৬ হিসেবে পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৮০/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় রুজু হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে আসামিরা আদালতে জামিন আবেদন করলে ১ নম্বর আসামি শাহিনুর রহমানের জামিন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। অপরদিকে, ২ নম্বর আসামি জিয়াউর রহমান পলাতক থাকলেও অন্য আসামিরা জামিনে মুক্তি পান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওইদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক আসামিকে সঙ্গে নিয়ে মামলার সাক্ষী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদী, সাক্ষী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া, বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর বাদী, তার পরিবারের সদস্য এবং মামলার সাক্ষীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, যেকোনো সময় তাদের ওপর হামলা বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ঘটনায় ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ধুনট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৭৫০) করা হয়েছে।
বাদী হাফেজ মো. কামরুজ্জামান বলেন, "আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে আমি, আমার পরিবার এবং মামলার সাক্ষীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।"
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার