এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় র্যাব-১২ এর পৃথক দুই অভিযানে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় যাত্রী ও পথচারীদের অজ্ঞান করার কাজে ব্যবহৃত চেতনানাশক ওষুধের মিশ্রণে তৈরি তিনটি পুরিয়া উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১২ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা ও চুরির মামলার তদন্তে নেমে এ সাফল্য অর্জন করে র্যাব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী সবুজ হাওলাদার (২৮) বগুড়ার শাকপালা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের খপ্পরে পড়েন। পরে তার কাছে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা, একটি আইফোন-১৪ প্রো ম্যাক্স, একটি রিয়েলমি সি-৭১ মোবাইল ফোন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়া যায়।
ঘটনার পর র্যাব-১২ এর সিপিএসসি বগুড়ার গোয়েন্দা দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ জুন বিকেলে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকার সপ্তপদী মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ও অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত মো. মেহেদী হাসান সৌরভ (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার হাড্ডিপট্টি এলাকার বাসিন্দা।
পরবর্তীতে সৌরভের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালি রাজা ফিলিং স্টেশনের সামনে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ সময় মামলার অপর পলাতক সন্দেহভাজন আসামি মো. উজাম মিয়া (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ধুনদিয়া হরিরামপুর এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত উজাম মিয়ার কাছ থেকে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের অজ্ঞান করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন চেতনানাশক ওষুধের সংমিশ্রণে তৈরি তিনটি পুরিয়া উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধভাবে অজ্ঞান পার্টির কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১২ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার