এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৯৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্প। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড এবং নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-১২ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া জেলার কাহালু থানার কালাই কর্নিপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জনৈক সাইফুল প্রামাণিকের বসতবাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে মো. মিলন প্রামাণিক (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
র্যাবের দাবি, আটকের সময় তার কাছ থেকে ৩৭ পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি পুরোনো বাটন মোবাইল ফোন, একটি সিমকার্ড এবং নগদ ১ হাজার ৪৩০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
এরপর একই রাতে প্রায় ১১টা ৫ মিনিটে বগুড়া সদর থানাধীন হাড্ডিপট্টি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ অভিযানে মোছা. আশামনি বেগম (২০) ও মো. উজ্জল প্রামাণিক (২৪) নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, তাদের কাছ থেকে ৯৯ পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে একটি পুরোনো বাটন মোবাইল ফোন, দুটি সিমকার্ড এবং নগদ ২ হাজার ১২০ টাকা জব্দ করা হয়।
আটক মিলন প্রামাণিক কাহালু উপজেলার কালাই কর্নিপাড়া এলাকার মৃত মনছুর প্রামাণিকের ছেলে। অপরদিকে আশামনি বেগম বগুড়া সদর উপজেলার হাড্ডিপট্টি বাসস্ট্যান্ড এলাকার মো. বাবলুর স্ত্রী এবং উজ্জল প্রামাণিক শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত ছাত্তার প্রামাণিকের ছেলে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
র্যাব-১২-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন/আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে র্যাবের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে মাদকের সরবরাহ ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার