দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে সরকার জারি করেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ নীতিমালার মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সারা দেশে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৮ ধরনের ব্যক্তি বা পরিবারকে সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি জিটুপি (Government to Person) পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে লক্ষ্যভুক্ত দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীবনধারণের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কর্মসূচির মূল দর্শন হলো—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।’
এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে একটি একক ও ডিজিটাল পরিচিতির আওতায় আনতে ‘ওয়ান-আইডি’ ব্যবস্থাকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এটি শুধু একটি পরিচিতি নম্বর নয়; বরং রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না
১. নির্ধারিত PMT স্কোরের বেশি হলে
সরকার নির্ধারিত PMT (Proxy Means Test) স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে না।
২. সরকারি বা এমপিওভুক্ত চাকরি থাকলে
পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে তিনি সুবিধার বাইরে থাকবেন। একইভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না।
৩. নিয়মিত সরকারি পেনশন পেলে
পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অনুরূপ অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের যোগ্য হবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারী এ শর্তের আওতায় পড়বেন না।
৪. ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় বা বিনিয়োগ থাকলে
পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে পরিবারটি সুবিধা পাবে না। একইভাবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।
৫. তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে
পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। এর মধ্যে সিএনজি বা পেট্রলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।
৬. বড় বাণিজ্যিক ব্যবসা থাকলে
পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে তিনি এ কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।
৭. নিয়মিত করদাতা হলে
পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।
৮. নির্দিষ্ট সীমার বেশি জমি বা বাণিজ্যিক সম্পদ থাকলে
বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। এছাড়া কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।
নীতিমালার লক্ষ্য হলো প্রকৃত দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন ও অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়ানো।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ মিন্টু ইসলাম
Mintuislam59@gmail.com
ইপেপার