স্টাফ রিপোর্টার:
দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে এসব আনসার সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। একজন আনসার কমান্ডারের নেতৃত্বে তারা তিনটি শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সকালে ৫ জন, বিকেলে ২ জন এবং রাতে ২ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের নজরদারি থাকবে। এতে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য আরও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে ১ জুলাই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের বেতন-ভাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনিযুক্ত আনসার কমান্ডার মো. বাদশাহ বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নিয়মিত আমাদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। রোগী, তাদের স্বজন এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও প্রদান করতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।এদিকে, নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে। হাসপাতালের অবকাঠামো, চিকিৎসাসেবা ও পরিবেশ উন্নয়নে একের পর এক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেনের সার্বিক সহযোগিতা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি মেরামত, আইপিএস সংযোজন, ইসিজি মেশিন সচল করা, দীর্ঘদিন অচল থাকা আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন মেরামতসহ হাসপাতালের বিভিন্ন জরুরি যন্ত্রপাতি পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতাল চত্বরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, আগাছা অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী ও তাদের স্বজন হাসপাতালে আসেন। আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দালালচক্র, বিশৃঙ্খলা এবং বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের অভ্যন্তরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন। বিশেষ করে জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনদের অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে ভোগান্তি কমবে এবং দালালদের অবাধ বিচরণও অনেকাংশে বন্ধ হবে। এতে সাধারণ মানুষ আরও সহজে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

