এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে এক নারীর ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ১ হাজার অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন (Buprenorphine Injection I.P.) উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের উত্তর পাশে শম্ভু ডাল মিলসের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে একটি বড় মাদকের চালান নওগাঁ থেকে বগুড়ার দিকে পাচার করা হবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নওগাঁ থেকে বগুড়াগামী নুর পরিবহনের (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-জ-১১-২৮৮৭) একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে বাসের সি-৪ নম্বর আসনে টিকিটবিহীন অবস্থায় বসে থাকা এক নারী যাত্রীর দেহ ও তার সঙ্গে থাকা কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে পুরাতন কাপড়ে মোড়ানো চারটি কালো পলিথিনের ভেতর থেকে CUPIGESIC লেবেলযুক্ত বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের মোট ১ হাজার অ্যাম্পুল উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি অ্যাম্পুলে ২ মিলিলিটার করে মোট ২ হাজার মিলিলিটার (২ লিটার) মাদকদ্রব্য ছিল বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
এ সময় মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে একটি ওয়ালটন প্রিমো আর৮ (Walton Primo R8) অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ডও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নারী হলেন মোছা. রিতা খাতুন ওরফে নুপুর (৩৭)। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুবলি বাগান এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. জাহিদ কবির, স্বামীর নাম মো. রিয়াজুল হক টিটু এবং মাতার নাম মোছা. আছিয়া বেগম।
ডিএনসি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করে গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৩(খ) ও ২৬(১) ধারায় বগুড়া সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়ার পরিদর্শক মো. সামসুল আলম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এ মাদকের চালানের সঙ্গে আরও ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সম্পৃক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের ঘোষিত ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলবে।

