এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম বাদ পড়ায় পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করণ ও নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বগুড়া শহরের সুত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা এ,এস মাহমুূুদুল হাসান শাহেদ এর স্ত্রী আনোয়ার বেগম। বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন আমার স্বামী একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে দীর্ঘদিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা কৃত মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ভাতা নিয়মিত উত্তোলন করে আসছিল। হঠাৎ করে চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকে মাসিক ভাতা উত্তোলণ করতে গিয়ে জানতে পারি যে, আমার স্বামীর এম. আই এস সিস্টেম/টাকা প্রদান বন্ধ করা হয়েছে। পরে আমি ইউএনও অফিস মারফত জানতে পারি যে, আমার স্বামীর নামে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই করা হয়েছে।
তাদের যাচাই বাচাই অন্তে আমি জানতে পারি যে আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.এস. মাহমুদুল হাসান শাহেদকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হতে প্রাথমিক ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সালে ১৪ মে শনিবারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত গেজেট পাশ করেন। গেজেটের বইয়ের পৃষ্ঠা নং- ৩১৭০ ক্রমিক নং ১২২ তাং ১৪ মে ২০০৫ ইং।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ডাটা বেইজে সব তথ্য সঠিক রয়েেছে। মুক্তিযোদ্ধা আইডি নং ০৫০১০১০২২৫ জাতীয় তালিকা নং- ৫৫ তাহার জন্ম তারিখ ৩০/০৮/১৯৪২ আরও উল্লেখ্য থাকে যে, বগুড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহবায়ক জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ এবং বগুড়া জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড জনাব রুহুল আমিন বাবলু কর্তৃক আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধ এ. এস. মাহমুদুল হাসান শাহেদকে ২৬/০১/২০০৬ সালে প্রকৃত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন। আমার স্বামী যে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহা আব্দুল মাজেদ মিয়া ওরফে মাজেদ যিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জি.ডি.পি ব্রাঞ্জের ফ্লাইট ক্যাডেট ছিলেন যার স্টাফ নং- পি.কে ৯২৮৭৪ একটি হলফনামায় উল্লেখ করেন যে, আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.এস. মাহমুদুল হাসান (শাহেদ) আব্দুল খালেক মশরু এবং আব্দুল মাজেদ মিয়া সহ তিনজন একরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে জুলাই মাসে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের সাকসহ গ্রাম থেকে যমুনা নদী দিয়ে পাটের নৌকা যোগে ভারতে মানকের চড়ে উপস্থিত হন এবং সেখানে অবস্থানকালীন আব্দুল মাজেল মিয়ার নানা দেওয়ান মহিউদ্দিন মোক্তার যিনি তৎকালীন বগুড়া জেলার আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন তার সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মধ্যে দুইজন বিমান বাহিনীর লোক হওয়ায় তিনি কলকাতার বাংলাদেশ সরকারের সাথে দেখা করার পরামর্শ দেন। আব্দুল মাজেদ মিয়া আরোও উল্লেখ করেন যে, তাদেরকে বিশেষ ক্যাম্পে দুই সপ্তাহ রাখার পরে মাজেদ মিয়া খশুরু ভারতে মুর্তিতে মুজিব ক্যাম্পে পাঠিয়া নেন এবং আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.এস. মাহমুদুল হাসান (শাহেদ) কে ৬ নং সেক্টরের হেড কোয়ার্টারে বুড়িমারীতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখানে তাকে সেক্টর সিকিউরিটি অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবং সর্ব শেষ গাইবান্ধা সাব সেক্টরের অধিনায়ক তৎকালীন ফ্লাইট লেঃ হামিদুল্লাহের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে তৎপর ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নিকট আমার সবিনয় আবেদন আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.এস. মাহমুদুল হাসান (শাহেদ) কে তার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে আমার প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পুনরায় চালু করার দাবি জানাই।
