দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক :
মূল যে বিষয়গুলো নিয়ে শিয়াদের সাথে আমাদের বিভেদ সে সব বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার উদ্যোগগুলো আশাকরি আমার মতো দূর্বল ঈমানদারদের কিছুটা হলেও ভালো লাগবে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি,
শিয়া মাজহাবে প্রচলিত বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয় সমাধান করে শিয়া ও সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করতে ভালো কিছু ফতোয়া জারি করেছেন।
যার মধ্যে রয়েছে সাহাবীদের গালি না দেয়া, মহহরমে শরীর থেকে রক্ত না ঝরানো, সকল মাজহাবের মুসলিম একই মসজিদে নামাজ পরার তাগিদ ইত্যাদি যা মুসলিম ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান হয়ে থাকবে।
১. সাহাবীদের গালি না দেওয়া (Insult Sahaba)
আলী খোমেনি বা খামেনির ফতোয়া:
২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সুন্নী-শিয়া ঐক্য রক্ষার স্বার্থে ঘোষণা দেন—“সাহাবায়ে কিরামসহ সকলে, বিশেষ করে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা, আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু ও অন্যান্যকে গালি দেয়া হারাম” ।
এই ফতোয়া ইরানের সরকারি ওয়েবসাইটও প্রকাশ করেছে (২০১৬ সালের জুনে রিলিজ)।
এটা নিয়ে তৎকালীন সময়ের রয়টারস ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনটি এটি প্রশংসিত হয়েছিল।
২. মহররমে রক্ত ঝরানো (Tatbir) বিষয়ে ফতোয়া:
তাজিয়া / তাতবীর (Tatbir)—শরীরের ব্লাড-লেটিং—এতে শরীরের ক্ষতি এবং রিয়াজত (self-harm) এড়ানোর জন্য ফতোয়া জারি করেন।
উইকিপিডিয়া নিবন্ধে বলা হয়েছে—“Ali Khamenei … Forbidden … Tatbir is a wrongful act… I do not approve.”
তিনি এটাকে আধুনিক সময়ে “fabricated tradition” ও “body‑harm” হিসেবে উল্লেখ করেন
৩. সুন্নী ও শিয়া একই মসজিদে নামাজ আদায়ের তাগিদ
পদক্ষেপ:
খোমেনি সব মাজহাবের মুসলমানদের এক কাতারে নামাজ পড়া ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ইরানে বহু স্থানে সুন্নী-শিয়া একসাথে নামাজ আদায় করেন, এবং এটি খোমেনির নির্দেশনাকে অনুসরণ করেই চালু হয়েছে।
তিনি বলেন:
“আমরা সকল মুসলিম ভাই। আমাদের কেবল আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে, বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
(সূত্র: ইসলামি ঐক্যের সাপ্তাহিক বক্তৃতা, ১৯৮১)
উপরোক্ত লিখা থেকে যাবতীয় ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার ইসরাইলের প্রতি সাম্প্রতিক চক্ষুশীতলকারী ব্যবহারে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা ও ইরানের প্রতি আমাদের বুকভরা সমর্থন আরো জোরালোভাবে পুন:ব্যক্ত করছি।

