দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
১ অক্টোবর ২০২৬: দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের পর দুই হাতে হাতকড়া পরানোর ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিএমএসএফের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর জানান, গত বুধবার গভীর রাতে আসাদ সবুজকে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ডোপ টেস্ট করানো হয়। পরীক্ষায় মাদকাসক্তির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা নেই। তবে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ বিবেচনা করা জরুরি।
বিএমএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে কথিত চাঁদাবাজির একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় বিভিন্ন পেশার আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। তাঁদের অধিকাংশ জামিনে রয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি পুলিশের প্রবিধানমালা (পিআরবি)-এর ৩৩০ প্রবিধানের উল্লেখ করে জানায়, হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও সংযমের নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া অপ্রয়োজনে হাতকড়া ব্যবহারের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত যৌক্তিকতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং কোনো ধরনের অপমানজনক বা অমানবিক আচরণ হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিএমএসএফ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকের পেশাগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সূত্র: বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) প্রতিবাদ বিবৃতি।

