স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ার নন্দীগ্রামে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। এ সময় তার মোটরসাইকেল ও গণমাধ্যমের ডিজিটাল বুম আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার এবং মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিক সালমির ইসলাম জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক-এর নন্দীগ্রাম উপজেলা সংবাদদাতা এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ শাকিল প্রায় দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ইভা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে ইভা খাতুনের বাবা আলমগীর হোসেন প্রথমে এ বিয়ে মেনে নেননি। সম্প্রতি দুই পরিবারের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে ইভাকে বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ইভা খাতুনকে পিতার বাড়িতে আটকে রেখে জোরপূর্বক তালাক দেওয়ার চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগের খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদল নেতা শাকিলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
সাংবাদিক সালমির ইসলাম পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। তবে হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল ও গণমাধ্যমের ডিজিটাল বুম আটকে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন। আহত সাংবাদিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতোয়ার রহমান বলেন, বিবাহসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছনার শিকার হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে।

