এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং জনসাধারণের মধ্যে নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক বন্দরে সচেতনতামূলক সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণ করেছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে নিসচার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, চালক, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজিকুল ইসলাম রনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলা, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন না চালানো এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে সড়ক পারাপারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তারা আরও বলেন, সড়কের পাশে ও ফুটপাতে অবৈধভাবে মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত থাকতে হবে। চালক, পথচারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সচেতনতাই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উথলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ, বিএনপি নেতা রাব্বিন হোসেন, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হোসেন আলী, নিসচা শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, সহসভাপতি শাহজাহান আলী ও কনক দেব, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আলী এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক খাদিজা খাতুনসহ অন্যরা।
বক্তারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত অতিথি ও নিসচার নেতাকর্মীরা কিচক বন্দরের বিভিন্ন স্থানে পথচারী, চালক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
আয়োজকেরা জানান, মাসব্যাপী এ প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

