শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ধুনট মোড় থেকে হাজীপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর স্বার্থরক্ষা পরিষদের নেতা কেএম মাহবুবুর রহমান হারেজ।
বগুড়ার শেরপুর শহরের স্যানালপাড়ায় নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম ইন-এর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ধুনট মোড় থেকে হাজীপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণা দেন। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কেএম মাহবুবুর রহমান হারেজ বলেন, শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ফ্লাইওভার নির্মাণের ঘোষণা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক। এ প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া উন্নয়নবঞ্চনার শিকার হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার বগুড়ার উন্নয়নে বিভিন্ন বড় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হারেজ আরও বলেন, শেরপুরে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে ২০২৩ সাল থেকে শেরপুর স্বার্থরক্ষা পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তাঁরা। দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের দাবি ও প্রচেষ্টার পর নির্মাণের ঘোষণা আসায় শেরপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে শেরপুর বাসস্ট্যান্ড ব্যবসায়ী সমিতি, শেরপুর নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে। এ দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বগুড়া জেলার অন্যান্য সংসদ সদস্যের প্রতি ধন্যবাদ জানান হারেজ। পাশাপাশি শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ধুনট মোড় থেকে হাজীপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার নির্মিত হলে শেরপুরের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। যানজট কমার পাশাপাশি মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়বে।
তবে প্রকল্পের ঘোষণা বাস্তবায়নে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা শেরপুরবাসীর।

