দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ঢাকা, ৪ জুন ২০২৬: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত আজ বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। এ প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য “Climate Action” বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। তিনি জলবায়ু সংকটকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাণীতে তিনি বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমন্বিত নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভিত্তিতে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাণীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদারের কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

