দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। এরপরই শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম। জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে নিজেও ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের পর নানা ঘাত পেরিয়ে দায়িত্ব পান রাষ্ট্র পরিচালনার। দায়িত্ব পালনের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে। নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন একজন বিশ্বনেতা হিসেবে।
১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীর এক বনেদি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তার পিতা রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও মা জাহানারা খাতুন রানী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল। ১৯৫৩ সালে তিনি যোগ দেন তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযুদ্ধের একটি স্বতন্ত্র সেক্টরের। তার নামে গড়ে ওঠে জেড ফোর্স। ৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন জিয়াউর রহমান। সেদিন বিপথগামী সেনা অফিসাররা মেজর জিয়াকে গৃহবন্দী করে রেখেছিল। কিন্তু বাংলার সিপাহী ও জনতা একত্রীত হয়ে মেজর জিয়াকে উদ্ধার করে বাংলাদেশের প্রয়োজনে তাকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় বসিয়ে দেন। ৭৬ সালের ২৯শে নভেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। এরপর জিয়াউর রহমান ৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী একদল সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত করণ করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান তুমুল জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। তার হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করে। খালকাটা কর্মসূচি ছিল তার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। ১৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে তিনি দেশ গড়ার যে বৈপ্লবিক ধারার সূচনা করেছিলেন তা থেমে যায় ১৯৮১ সালের ৩০শে মে।

