এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও ক্রীড়া ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় মেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলাকে ঘিরে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য।
গত রোববার (২৮ জুন ২০২৬) বিকেলে ধুনট উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাকুরিয়াহাটা মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় মেলার উদ্বোধন করা হয়। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আগত মোট ২২টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ঘোড়াগুলোর মনোমুগ্ধকর ও রোমাঞ্চকর দৌড় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। প্রিয় ঘোড়াকে উৎসাহ দিতে দর্শকদের করতালি, উল্লাস আর আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলার মাঠ।
ঘোড়া দৌড়ের পাশাপাশি মেলায় বসে বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ পণ্য, খেলনা, মাটির তৈরি সামগ্রী, মিষ্টান্ন, খাবার ও বাহারি দোকান। পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা মেলার নানা আয়োজন উপভোগ করেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি মেলায় বাড়তি আনন্দ যোগ করে। অনেকেই এই মেলাকে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর এ ঘোড়া দৌড় মেলার আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণ, ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এই আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের ফাইনাল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ধুনট পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এ.কে. মিনু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবদলের নেতা মো. আব্দুর রাজ্জাক, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোমার আলী, উপজেলা সমবায় দলের নেতা জাহাঙ্গীর আলম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মিঠু মণ্ডল, ছাত্রদলের নেতা সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী এ ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় মেলা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আগত দর্শনার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

