স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমির নিবন্ধনসংক্রান্ত তদন্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রারকে গালিগালাজ ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জমি নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে নিবন্ধন সেবা নিতে আসা অন্তত দুই শতাধিক নারী-পুরুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরে অফিসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে শেরপুর পৌর শহরের বারোদুয়ারি পাড়া এলাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা মৌজার ৩২৮ শতাংশ জমির মালিকানা ও নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে দায়ের করা একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার দুই পক্ষকে নোটিশ দিয়ে শুনানিতে ডেকে পাঠান শেরপুর অফিসের খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা।
তদন্ত চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয় এবং অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সাময়িকভাবে সব ধরনের দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা জানান, তদন্ত চলাকালে নূরে আলম শাকিল নামে এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। এতে অফিসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত নূরে আলম শাকিল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমির নিবন্ধন নিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার দুটি পে-অর্ডার ছিল। তাঁদের অবগত না করেই ওই পে-অর্ডার ভাঙানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাইতে গেলে সাব-রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতেই একদল ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
এদিকে দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ বলেন, তদন্ত চলাকালে নূরে আলম শাকিল সাব-রেজিস্ট্রারকে অপদস্থ করার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এতে নূরে আলমের সমর্থকদের হামলায় তিনিও আহত হন বলে দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর সকাল থেকেই অফিসে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নিবন্ধন সেবা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শতাধিক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজ না করেই ফিরে যান। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েন।
খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে। পুলিশের উপস্থিতির পর উত্তেজনা প্রশমিত হলে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাব-রেজিস্ট্রার মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমই ব্যাহত করে না, সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

