এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার জলেশ্বরীতলা এলাকায় অবস্থিত দ্যা গ্র্যান্ড হ্যাভেলি রেস্টুরেন্টে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রেস্টুরেন্টটির রান্নাঘরে প্রচুর তেলাপোকার উপস্থিতি, খাবার পরিবেশনের প্লেট ও চামচের পাশে জুতা ও ঝাড়ু রাখা এবং খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বগুড়া মহানগরীর জলেশ্বরীতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেস্টুরেন্টটির রান্নাঘরে প্রচুর তেলাপোকার অস্তিত্ব দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। এ ছাড়া খাবার পরিবেশনের প্লেট ও চামচের সঙ্গে জুতা ও ঝাড়ু সংরক্ষণ করতে দেখা যায়, যা খাদ্যদ্রব্যের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
অভিযানের সময় রেস্টুরেন্টটির ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত খাবার রাখা এবং খাদ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক পোশাক ব্যবহার না করার বিষয়গুলোও নজরে আসে।
এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দ্যা গ্র্যান্ড হ্যাভেলি রেস্টুরেন্টকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদি হাসান। এ সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়ার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আব্দুল কাদেরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে জেলা পুলিশের একটি দল।
অভিযান শেষে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে সরকারি আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে নিয়মিত তদারকি জরুরি
খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রান্নাঘর পোকামাকড়মুক্ত রাখা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদাভাবে সংরক্ষণ এবং খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিষয়ে অবহেলা খাদ্যদূষণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রেস্তোরাঁগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।

