দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম।
বৃহস্পতিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সম্মানে আয়োজিত বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যাহ্নভোজে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালীন সক্রিয় সহযোগিতা, ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০২৬ সালের জুনে চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেছে। ওই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। সফরের সফল ফলাফল এবং যৌথ বিবৃতি প্রকাশে চীনের সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
বৈঠকে দুই দেশের চলমান সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, নদী ব্যবস্থাপনায় বৃহত্তর সহযোগিতা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এবং বাংলাদেশে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) উল্লেখযোগ্য।
পররাষ্ট্রসচিব এসব ক্ষেত্রে চলমান কার্যক্রমের গতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী মধ্যাহ্নভোজ আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্রসচিবকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশে তাঁর প্রায় চার বছরের দায়িত্বকালকে ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন অগ্রগতির কথা স্মরণ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামেও বাংলাদেশের প্রতি চীনের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ইয়াও ওয়েন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের জন্য চীনের ৮ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে হওয়া সমঝোতা ও সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও কার্যকর ফলোআপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের বন্ধুত্ব এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসব কারণে বাংলাদেশে তাঁর অবস্থান স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যাহ্নভোজ শেষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পরস্পরের মধ্যে উপহার বিনিময় করেন। পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের জন্য শুভকামনা জানান।

