এম,এ রাশেদ স্টাফ রিপোর্টারঃ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে ১৮০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১০২ পিস কুপিজেসিক ইনজেকশন, দুটি স্মার্টফোন ও নগদ ১৩ হাজার ১০ টাকাসহ চারজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি), স্থানীয় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের পাঁচগ্রাম এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কালাই উপজেলার পাঁচগ্রাম গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ও ছানোয়ার হোসেন (৩২), দেওগ্রাম গ্রামের আঞ্জমান (৩২) এবং বগুড়া সদর উপজেলার চালোপাড়া এলাকার আফিয়া ফেরদৌসী মিম (২৫)।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য এবং জেলা আইন-শৃঙ্খলা কোর কমিটির মাসিক সভায় আলোচিত ও চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আটক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অপর আটক ব্যক্তি ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। তিনি এর আগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
অভিযানে জব্দ করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে আনুমানিক ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের ১৮০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৩০ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ১০২ পিস কুপিজেসিক ইনজেকশন। এ ছাড়া আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্টফোন ও নগদ ১৩ হাজার ১০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা আলামতের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬১০ টাকা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক নারীকে শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে কালাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্য থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, চোরাচালান দমন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ কাজে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।

