এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় এক নারীর গোসলের সময় গোপনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে গাবতলী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের ধলীর চর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. রানা মিয়া (৪০)কে গ্রেপ্তার করে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ছহির উদ্দিন প্রাংয়ের ছেলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রানা মিয়া কৌশলে ভুক্তভোগী নারীর গোসলের সময় তার নগ্ন ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেসব ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেন। এতে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ভুক্তভোগী পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে অশ্লীল ও নগ্ন ছবি-ভিডিও প্রচার এবং ভুক্তভোগীর সম্মানহানির অভিযোগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গাবতলী মডেল থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ কিংবা প্রচার করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”
গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিব হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে । একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

