এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে এ চিত্র উঠে আসে। একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটির পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত না করার কারণেই এমন ফলাফল হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাধারণত ভালো ফলাফল করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এবারের ফলাফল তাদের জন্যও অপ্রত্যাশিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। ২০০২ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী এখানে কর্মরত রয়েছেন।
অভিভাবক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে শিক্ষকদের যথেষ্ট মনোযোগ না থাকার কারণেই এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করার পাশাপাশি মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।
আরেক অভিভাবক মজনু মিয়া অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দেন এবং বাড়তি আয়ের নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। এতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে পড়েছে বলে তাঁর দাবি।
তবে অভিভাবকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছরই আমাদের ভালো ফলাফল হয়ে আসছে। এবার কোনো কারণে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। কেন এমন হয়েছে, তা খুঁজে বের করে আগামী দিনে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস না করা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে শুধু ফলাফলের পরিসংখ্যান দিয়ে সমস্যার পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় ও মান, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতির বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই মাদ্রাসাটির পাঠদান কার্যক্রম ও একাডেমিক পরিবেশ পর্যালোচনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

