এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক হাফেজা ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণের বাবার বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তরুণের নাম পাভেল হোসেন আছলাম (১৮)। তিনি ধুনট উপজেলার খাদুলী দিগর এলাকার আজিবর রহমানের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের জোড়শিমুল ভালুকাতলা কওমি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, পাভেল হোসেন আছলাম বেশ কিছুদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি কিশোরীর বাবা পলাশ মন্ডল জানতে পেরে অভিযুক্ত তরুণের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পাভেল ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ে করার হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছুটি শেষে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় কিশোরী। ধুনট বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ডে নেমে অন্য একটি সিএনজিতে মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য ধুনট সরকারি নঈম উদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করছিল সে। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে পাভেল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পাভেলের বাবা মো. আজিবর রহমানও সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বাবা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে পাভেল ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের জোড়শিমুলগামী সড়কের দিকে যান। পরে ভালুকাতলা কওমি মাদ্রাসার পাশের একটি গাছের বাগানে তাঁদের অবস্থান ও কথাবার্তা স্থানীয় লোকজনের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাঁদের আটকে রাখেন।
বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা কিশোরীর পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত পাভেল হোসেন আছলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা পলাশ মন্ডল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা করেছেন। পরে অভিযুক্ত পাভেল হোসেন আছলামকে রবিবারে থানা থেকে বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

