এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বহুল আলোচিত বহুতল ভবনটি অবশেষে উচ্ছেদ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে শনিবার পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটির সড়ক প্রতিবন্ধক অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত এই ভবনটি অপসারণের ফলে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত ব্যস্ততম এই সড়কে স্বস্তি ফিরেছে। চালক, যাত্রী ও পথচারীরা এখন ঝুঁকিমুক্ত ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চার লেন উন্নয়ন কাজ প্রায় সম্পন্ন হলেও মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ওই ভবনের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনের মালিকানা, ক্ষতিপূরণ এবং আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে চার লেনের প্রশস্ত সড়কটি ওই স্থানে এসে হঠাৎ সরু হয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে পরিণত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কের মাঝখানে এমন স্থাপনা শুধু যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করেনি, বরং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় দ্রুতগতির বাস ও ট্রাক চালকদের জন্য এটি ছিল বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ।
স্থানীয়রা জানান, ভবনটি ঘিরে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হতো। ঈদ, পূজা কিংবা সরকারি ছুটির সময়ে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের চাপ বাড়লে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে থাকত। এতে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
সওজ সূত্রে জানা যায়, সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং প্রয়োজনীয় নোটিশ প্রদান শেষে প্রশাসনের সহযোগিতায় শনিবার দুপুর ১টায় চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শক্তিশালী ভেকু (এস্কেভেটর) ব্যবহার করে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ভবনের সামনের অংশ এবং মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কাঠামো সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।
স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস
ভবন উচ্ছেদের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি দেখা যায়।
ঢাকা-রংপুর রুটের এক বাসচালক বলেন,
”এই ভবনটা আমাদের জন্য এক ধরনের মরণফাঁদ ছিল। দূর থেকে মহাসড়কের মাঝখানে ভবনটি দেখলে আতঙ্ক কাজ করত। এখন রাস্তা পরিষ্কার হওয়ায় অনেক স্বস্তি নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে।”
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,
”মহাস্থানগড় দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ও পর্যটন এলাকা। মহাসড়কের মাঝখানে এমন ভবন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই ছিল না, এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট করছিল। অবশেষে প্রশাসন সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছে।”
সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,
”মহাসড়ককে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বাধাহীন করা আমাদের মূল লক্ষ্য। এই ভবনের কারণে চার লেন সড়কের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল না। উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অংশের সড়ক উন্নয়ন, পাকাকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হবে।”
নতুন গতির প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের মতে, মহাসড়কের মাঝখানের এই দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে কমবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, স্বাভাবিক হবে যান চলাচল এবং উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত হবে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক।
দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যার সমাধান হওয়ায় স্থানীয় জনগণও প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

