এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের কানছগাড়ি এলাকায় এক রাতে তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের এ ন্যাক্কারজনক হামলায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬)দিবাগত গভীর রাতে কানছগাড়ি এলাকার তিনটি মন্দিরে একযোগে হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো হলো কানছগাড়ি শিব মন্দির, শীতলা মন্দির এবং মহাশ্মশান মন্দির।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে ভক্তরা প্রতিমাগুলোর ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান। পরে খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
কানছগাড়ি মহাশ্মশান কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ বলেন, “প্রতি মাসের নির্ধারিত শনিবারে এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকালে এসে আমরা দেখতে পাই তিনটি মন্দিরের প্রতিমাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিবগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর দত্ত বলেন, “একসঙ্গে তিনটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত দাবি করছি। একই সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য কনক দেব, সঞ্জয় কুমার সাহা, কাজল কুমার, মিন্টু কুমার সাহা, নয়ন সরকার, উৎপল কুমারসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের মতে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপকর্ম ঘটিয়ে থাকতে পারে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা শুধু একটি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপরও আঘাত। তাই এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

