দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে ১১টি আধুনিক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও বোয়িংয়ের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। নতুন এই ক্রয়ের ফলে চলতি বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মোট উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ ও তুরস্কের সঙ্গে বোয়িংয়ের পৃথক উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বোয়িংয়ের এসব চুক্তিতে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটিতে বিপুল কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে ৭৮৭-১০ দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজ এবং ৭৩৭-৮ অপেক্ষাকৃত স্বল্প ও মধ্যপাল্লার রুটে ব্যবহারের উপযোগী। বোয়িং জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ।
বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন এবং বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘপাল্লার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তিতে ছিল আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের চলতি বছরের মোট অর্ডার দাঁড়িয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজে।
বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিসহ বিমানের মোট পরিকল্পিত বোয়িং বহরে থাকবে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহরে আধুনিক ও জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়বে।
এদিকে একই সময়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা তুর্কিশ এয়ারলাইন্স বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০০টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে এবং আরও ৫০টি উড়োজাহাজের জন্য বিকল্প সুবিধা রেখেছে। বাংলাদেশের ১১টি নিশ্চিত উড়োজাহাজ এবং তুরস্কের ১০০টি নিশ্চিত উড়োজাহাজ মিলিয়ে ট্রাম্প যে ১১১টি উড়োজাহাজের চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি এই দুই দেশের নিশ্চিত ক্রয়ের সম্মিলিত সংখ্যা।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের মূল লক্ষ্য দেশের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ শক্তিশালী করা, বিমানের বহর আধুনিকায়ন এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর সক্ষমতা তৈরি করা। এ চুক্তির মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও এগিয়ে যাবে।

