বগুড়া প্রতিনিধি:
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা ড. সরদার মো. কেরামত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত বেকারত্ব হ্রাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং তাঁদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষাধারায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রসার, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং কার্যকর শিক্ষা প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি। নবনিযুক্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, দায়িত্বশীলতা, পেশাগত উৎকর্ষ এবং শিক্ষা প্রশাসন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার এবারের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে শুধু পাঠ্যক্রম বা পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য জ্ঞান অর্জনের বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন্নাহার বেবি, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে ছয় শতাধিক নবনিযুক্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন এবং শিক্ষা প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করা। এর মাধ্যমে তাঁরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন।
প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। এ সময় তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে আশ্বাস দেন।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদ বিকাশে কাজ করে আসছে। নবনিযুক্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের এ প্রশিক্ষণ আয়োজন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ শিক্ষা প্রশাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নবনিযুক্ত কর্মকর্তারা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্মমুখী ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

