দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ডিজিটাল অপরাধ তদন্ত ও ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ।
সাইবার অপরাধ তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রামে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অধীনে সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ কেন্দ্রটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এমপি।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, বিপিএম। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা কোইকার (কেওআইসিএ) কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম, কোরীয় দূতাবাসের উপপ্রধান কিম হে-জং, কোইকা বাংলাদেশের উপকান্ট্রি ডিরেক্টর সুজিন কং এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক গিবুম কিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
৫৯ কোটি টাকার প্রকল্পে আধুনিক অবকাঠামো
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘সাইবার স্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ: এনহ্যান্সিং ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ক্যাপাবিলিটি অব বাংলাদেশ পুলিশ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এতে সহযোগিতা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা কোইকা।
প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিআইডি সদর দপ্তরে সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাড়ছে সাইবার অপরাধ, প্রয়োজন আধুনিক তদন্তব্যবস্থা
তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের ধরন ও জটিলতা বাড়ছে। এসব অপরাধের তদন্তে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সির অপব্যবহার, ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পাচার, অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণা এবং স্পর্শকাতর তথ্য চুরির মতো অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল প্রমাণের ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তদন্ত ও অপরাধ দমনে কী সুবিধা হবে
নতুন কেন্দ্রটির মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, জটিল অনলাইন প্রতারণার তদন্ত এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ শনাক্তকরণে কেন্দ্রটি ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ, সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয় প্রয়োজন। চট্টগ্রামে নতুন এই কেন্দ্রের কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ সেন্টারটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে ডিজিটাল অপরাধ তদন্তে সময় কমানো, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

