https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকাFriday , 22 May 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কৃষি বার্তা
  11. খাগড়াছড়ি
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. খোলা কলাম
  15. গনমাধ্যাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৩৪ সম্পাদকের যৌথবিবৃতি: স্বাধীন ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্লাটফর্ম গঠনের আহ্বান

admin
May 22, 2026 6:41 am
Link Copied!

দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক :

দীর্ঘ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পর রাষ্ট্র যখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যায়, তখন সমাজের প্রতিটি স্তরে এই পুনর্গঠন জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় মুক্ত সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতে যে প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক বলয় তৈরি করা হয়, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা সহজ কাজ নয়।

ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল গণমাধ্যমের ওপর এক ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি বিধিনিষেধের পাশাপাশি ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্বপ্রণোদিত হয়ে সত্য প্রকাশে বিরত থাকার যে সংস্কৃতি গত দিনগুলোয় তৈরি হয়েছিল, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এককভাবে কোনো সম্পাদকের পক্ষে এই ভয়ের দেয়াল ভাঙা সম্ভব নয়। তবে সম্পাদকরা যদি সমষ্টিগতভাবে দৃঢ় অবস্থান নেন, তাহলে তা প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে সাহস জোগাবে। জনগণের জানার অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধ সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানই পারে সংবাদকক্ষগুলোকে নির্ভীক সাংবাদিকতায় ফিরিয়ে আনতে।

ফ্যাসিবাদী আমলে অনেক গণমাধ্যমের মালিকানা চলে গিয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে, যারা সাংবাদিকতাকে শুধু নিজেদের স্বার্থরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বশংবদ ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের বয়ান তৈরি এবং বিভাজন ও বিদ্বেষের বিষে জর্জরিত করা হয়েছে সম্পাদকবৃন্দের মর্যাদা ও ঐক্য। ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে এই করপোরেট ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সম্পাদকীয় নীতিকে মুক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সম্পাদকদের যদি একটি শক্তিশালী ও আপসহীন ঐক্য থাকে, তবে মালিক পক্ষের অন্যায্য এবং ব্যবসায়িক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও তারা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের অন্যায্য চাপও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মতো বিভিন্ন দমনমূলক আইন ব্যবহার করেছে। ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সরকারের সময়ে এই আইনগুলোর সংস্কার বা পূর্ণাঙ্গ বিলোপ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসব দাবি আদায় সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সব ধারার সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সম্মিলিত ও নিয়মতান্ত্রিক চাপ। আমরা তেমন একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছি।

সম্পাদকদের ঐক্য শুধু অধিকার আদায়ের জন্য নয়, বরং নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্যও প্রয়োজন। একটি ঐক্যবদ্ধ ফোরামের মাধ্যমে সাংবাদিকতার বৈশ্বিক নীতি ও নৈতিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে, যেন গণমাধ্যম নিজেই নিজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে এবং কোনো রাষ্ট্রীয় বা বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না থাকে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ফ্যাসিবাদ সরাসরি বিদায় নিলেও তার রেখে যাওয়া ক্ষত ও দোসররা সমাজের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় থাকে। তারা যেকোনো সময় গণমাধ্যমের অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে বিভিন্ন সংকটকালে সম্পাদকদের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। আজ আবার সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সময় এসেছে। দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের পাহারাদার হিসেবে বাংলাদেশের সম্পাদকদের এই ঐক্য শুধু একটি জোট নয়, বরং এটি হবে মুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের এক অপরিহার্য ‘নিরাপত্তা প্রাচীর’।

এই প্রতিষ্ঠান গোষ্ঠী বিশেষের বদলে দল-মত নির্বিশেষে সব গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকবে। আমরা অনৈক্যের সব পাটাতন ভেঙে এবং সংকীর্ণতা ও বিভেদের সব দেয়াল তুলে দিয়ে গণমাধ্যমের সব সম্পাদককে এক কাফেলায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অচিরেই আমরা এ ব্যাপারে সাংগঠনিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারিরা হচ্ছেন, শফিক রেহমান (যায়যায় দিন), মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ), সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (নয়াদিগন্ত), আবদুল হাই শিকদার (যুগান্তর), আবু তাহের (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মারুফ কামাল খান সোহেল (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), হাসান হাফিজ (কালের কন্ঠ), আযম মীর শহীদুল আহসান (সংগ্রাম), মোকাররম হোসেন (নিউনেশন), শফিকুল আলম (ওয়াদা), সৈয়দ মেসবাহ উদ্দীন (বাংলাদেশের খবর), রেজাউল করীম লোটাস (ডেইলি সান), মোস্তফা কামাল (খবরের কাগজ), বেলায়েত হোসেন (ভোরের ডাক), ওবায়দুর রহমান শাহীন (জনতা), শহীদুল ইসলাম (মানবকন্ঠ), মো. সায়েম ফারুকী (রূপালী বাংলাদেশ), মনির হোসেন (খোলা কাগজ), ইলিয়াস খান (টাইমস অফ বাংলাদেশ), মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব (বাংলাবাজার পত্রিকা), শেখ নজরুল ইসলাম (খবর সংযোগ), আবুল কাশেম মজুমদার (ক্যাপিটাল নিউজ), ব্যারিস্টার মো. মারুফ ইব্রাহীম আকাশ (খবরপত্র), শামসুল হক দুররানি (নওরোজ), শাহাদাত হোসেন শাহীন (গণমুক্তি), আফসার উদ্দিন চৌধুরী (কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম), সোহেল মাহবুব (নতুন প্রভাত, রাজশাহী), মাহবুবা পারভিন (অনির্বাণ, খুলনা), শান্তনু ইসলাম সুমিত (লোকসমাজ, যশোর) খন্দকার মোস্তফা সরোয়ার অনু (দাবানল, রংপুর), মততাজ শিরিন ভরসা (যুগের আলো, রংপুর), আশরাফুল হক (প্রবাহ, খুলনা), মুকতাবিস উন নূর (জালালাবাদ, সিলেট), সাইফুল ইসলাম (নিউ টাইমস, ময়মনসিংহ)। ▪️

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।