ঢাকা প্রতিনিধি:
ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৬:বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও ইউনুস সেন্টারের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী জুলাই। আমাদের স্মৃতিতে জুলাই দীর্ঘ—৩৬ দিনের এক মাস। জুলাই আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, কী ভীষণ শক্তি নিয়ে এ জাতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
আজকের এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই সব শহিদকে, যাঁরা এই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাঁদের প্রতিও, যাঁরা আহত হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
জুলাই সর্বস্তরের, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের। জুলাই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের, যারা রাজপথে নেমে এসেছিল। জুলাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের, যারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
সাংবাদিক, আলোকচিত্রী ও পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাঁদের কণ্ঠ ও সৃজনশীলতা দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানে শক্তি যুগিয়েছেন। রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো কঠিন পরিবেশে চরম ঝুঁকি নিয়ে আহতদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নানা প্রান্ত থেকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
জুলাইয়ে নারীরা যে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন, তা দেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং তরুণদের সাহস জোগাবে। শিক্ষার্থীদের অনন্য নেতৃত্ব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উৎস হয়ে থাকবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে—দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা সবচেয়ে দুর্ভেদ্য বলে মনে হওয়া কাঠামোকেও বদলে দিতে পারে। ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা যে গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছি, তা অব্যাহত রাখতে আমাদের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।
— প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

