ঢাকা প্রতিনিধি,:
ঢাকা, ৫ আগস্ট: বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি (পারদ) শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি এসব পণ্য ব্যবহার, বিক্রি, বিতরণ ও মজুত থেকে বিরত থাকার জন্য ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, তাদের পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব প্রসাধনীতে মার্কারির পরিমাণ বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা ১.০০ পিপিএম-এর বহু গুণ বেশি।
বিএসটিআই জানায়, অধিকাংশ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বৈধভাবে আমদানি করা হয় না। লাগেজ বা চোরাই পথে দেশে প্রবেশ করায় এসব পণ্যের মান যাচাই করা সম্ভব হয় না এবং এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় যেসব পণ্যে অতিরিক্ত মার্কারি পাওয়া গেছে:
ডিউ বিউটি ক্রিম (পাকিস্তান) — ১২৩.৩৭ পিপিএম
চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিম (পাকিস্তান) — ১২০.৩৯ পিপিএম
নুর হোয়াইটেনিং ক্রিম (পাকিস্তান) — ৮২.৭৬ পিপিএম
নাভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিম (পাকিস্তান) — ৭৯.৭০ পিপিএম
ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিম (চীন) — ৬৭.৪৯ পিপিএম
নাভিয়া বিউটি ক্রিম (পাকিস্তান) — ৫৯.৮২ পিপিএম
গৌরী বিউটি ক্রিম (পাকিস্তান) — ৫৬.৯৩ পিপিএম
নিউ ফেস বিউটি ক্রিম (পাকিস্তান) — ৪৪.৭২ পিপিএম
বিএসটিআই সতর্ক করে বলেছে, এসব প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বক, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতিসহ বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভোক্তাদের অবিলম্বে এসব পণ্য ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রসাধনী কেনার আগে ভোক্তাদের বিএসটিআইয়ের অনুমোদন যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি অনুমোদনহীন বা সন্দেহজনক কোনো প্রসাধনী বাজারে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিএসটিআইকে অবহিত করার আহ্বান জানান।

