খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ বাথরুমের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে নির্মাণশ্রমিকরা তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার গাজীরহাট হাজী নঈম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হয়। এরপর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক একটি বাথরুমের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে নারীকণ্ঠের গোঙানির শব্দ শুনে তারা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন।
পরে বাথরুমটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে এক স্কুলছাত্রীকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক মফিজুর রহমান শাফিনের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া ছাত্রী বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা শিমুল রায় জানান, দুপুর ২টায় স্কুল ছুটি হওয়ার পর নন্দিতা বিদ্যালয়ের বাথরুমে ঢোকে। এ সময় পেছন থেকে কেউ তার মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। পরে দুর্বৃত্তরা তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে তাকে বাথরুমে ফেলে রেখে যায়।
শিমুল রায়ের আরও অভিযোগ, তার মেয়ের শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে ওই ছাত্রী। তবে হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি এবং বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

