এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহঃ) মাহীসওয়ারের পবিত্র মাজার শরিফের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের (আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্ট) পক্ষ থেকে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন ২০২৬) বিকাল ৫টায় মহাস্থান মাজার মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী, বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, মাজার কমিটির সদস্য এবং খাদেমরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাজার শরিফে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী জিয়ারত ও নামাজ আদায়ের জন্য আসেন। তবে নারীদের নামাজের জন্য পর্যাপ্ত ও পৃথক ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও ধর্মীয় উৎসবের সময় নারীদের খোলা জায়গায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নামাজ আদায় করতে হয় বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থ ও ধর্মীয় সুবিধা বিবেচনায় মাজার কমিটি নিজস্ব অর্থায়নসহ সরকারি অনুদান ও সাধারণ মানুষের দান-অনুদানে একটি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু কাজ শুরু করার পরই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঐতিহাসিক স্থাপনার সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে কাজ বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবাদ সমাবেশে মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএইচএম রবিউল ইসলাম বলেন,
“আমরা কোনোভাবেই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষতি করতে চাই না। শুধুমাত্র মুসল্লিদের সুবিধার জন্য নির্ধারিত ও পরিত্যক্ত জায়গায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ ধরনের বাধা জনস্বার্থের পরিপন্থী।”
এছাড়াও স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, মহাস্থান মাজার কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, এটি ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্র। এখানে নামাজ ও জিয়ারতের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি চলমান রয়েছে। তারা উন্নয়ন কাজে বাধা না দিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানান।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত উন্নয়ন কাজে আরোপিত বাধা প্রত্যাহার না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধন থেকে মহাস্থান মাজার মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে উন্নয়ন কাজ চালুর ব্যবস্থা না করা হলে আগামী মঙ্গলবার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি শুক্রবার মহাস্থান জাদুঘর ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচির কথাও জানানো হয়।
এদিকে বক্তারা প্রত্নতত্ত্ব আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও মাজার কমিটির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় সুবিধা নিশ্চিত করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা প্রয়োজন।

