স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ার ধুনট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ধুনট-গোসাইবাড়ি সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ও পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পায়ে হেঁটে চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ধুনট শহর থেকে গোসাইবাড়ি কলেজ গেট পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার। প্রায় তিন বছর আগে সর্বশেষ সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সংস্কারকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, সড়কটির ওপর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক নিয়মিত চলাচল করায় সড়কের পিচ ও খোয়া দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১১ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। এতে গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভটভটিসহ ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই এসব গর্তে যানবাহন আটকে বা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।
গোসাইবাড়ি কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ বলেন, “এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ইজিবাইকে কলেজে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। রাস্তা এতটাই এবড়োখেবড়ো যে ইজিবাইকগুলো হেলেদুলে চলাচল করে। সামান্য বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।”
বাসচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “সড়কের বিভিন্ন স্থানে মরণফাঁদের মতো গর্ত তৈরি হয়েছে। এই সড়কে গাড়ি চালানোর কারণে বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে মেরামত খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থা এবং অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী সড়কটির বেহাল দশা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সড়কটির স্থায়ী মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সংস্কারকাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে ধুনট-গোসাইবাড়ি সড়কটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি সড়কটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভারী ও বালুবাহী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

