এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ভোরে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি উপজেলার গোপালপুর এলাকার মৃত বাদুলীর ছেলে মোঃ ফজলুল হক (৩৮)। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধুনট থানার চলমান মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমন অভিযানের অংশ হিসেবে এসআই (নিঃ) মোঃ ওসমান গণীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, কাশিয়াহাটা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তি মাদক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত লুঙ্গির পকেট থেকে ২০ পিস কমলা রঙের ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটগুলোর আনুমানিক ওজন প্রায় ১২ গ্রাম। জব্দকৃত আলামতের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ধুনট থানার পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এ বিষয়ে ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মোঃ ওসমান গণি বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলিশের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে এলাকায় মাদক কারবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তারা মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য গোপনীয়তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।

