এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া শহরের মাটিডালি এলাকায় অবস্থিত বহুল পরিচিত রিকন্ডিশনড গাড়ির প্রতিষ্ঠান জারা কার হাউজ-এর নতুন শোরুম ও গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে শোরুমে থাকা অন্তত পাঁচটি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এতে কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্যারেজ সূত্রে জানা যায়, মাটিডালি এলাকার নতুন এই শোরুমে রিকন্ডিশনড ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনাবেচার পাশাপাশি মেরামতের কাজও করা হতো। দুপুরে শোরুমের ভেতরের একটি অংশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখেন কর্মচারীরা। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত পুরো শোরুমে ছড়িয়ে পড়ে।
শোরুমে থাকা গাড়িগুলোতে জ্বালানি, লুব্রিকেন্টসহ দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুনের তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ সময় কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি গাড়ি ঠেলে ও চালিয়ে বাইরে বের করতে সক্ষম হলেও অন্তত পাঁচটি গাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। এ সময় বগুড়া সদর থানা পুলিশ, ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত নিরাপত্তা বলয় গড়ে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন,
“খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুনে কয়েকটি গাড়ি এবং শোরুমের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”
শোরুম সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। পুড়ে যাওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে দামি ব্র্যান্ডের কয়েকটি রিকন্ডিশনড সেডান ও একটি মাইক্রোবাস রয়েছে। মালিকের অনুপস্থিতি এবং ঘটনার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট হিসাব করা সম্ভব হয়নি। তবে শোরুমের সাজসজ্জা, অবকাঠামো এবং ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের মূল্য বিবেচনায় ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এদিকে, আগুনের উৎস ও প্রকৃত কারণ জানতে ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, গ্যারেজে মেরামতের সময় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার অথবা ওয়েল্ডিংয়ের স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

