এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি মাছের প্রজেক্ট জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রজেক্টের মালিকের কাছে চাঁদা দাবি, রাতের আঁধারে মাছ চুরি এবং সেখানে কর্মরত নাইট গার্ডকে ভয়ভীতি, মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রজেক্টের মালিক ও কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে মাছের প্রজেক্টের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম (৫০) সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি পাকুল্লা সরকারপাড়া এলাকার মৃত আত্তাব হোসেন সরকারের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা অবদার বেরিবাঁধ এলাকার ১৭ নম্বর খণ্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে জায়গা নিয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে মাছের প্রজেক্ট পরিচালনা করে আসছেন শহিদুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের এ ব্যবসা থেকে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি তিনি ওই এলাকায় মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, স্থানীয় জাকির হোসেন (৪০), সুলতান (৩৮), গোলাজার (৩৫), মো. নুরু সোনার (৪৫), মো. কাজল মিয়া (৩৮), মো. ফারুক মিয়া (৪০), রিপন মিয়া (৪০), বাবু মিয়া (৩৮), জহিদুল (৪০), স্বাধীন (৩০), রিফাত (২৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন ব্যক্তি পরস্পর যোগসাজশে তার মাছের প্রজেক্ট দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে প্রজেক্টে কর্মরত নাইট গার্ড মো. দুলাল মিয়াকে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে রাতের বেলায় প্রজেক্ট পাহারা দিতে গিয়ে দুলাল মিয়া আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রজেক্টের মালিকের দাবি, বিভিন্ন সময় তার কাছে টাকা-পয়সা দাবি করা হয়েছে। দাবিকৃত টাকা না দিলে প্রজেক্ট দখল করে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাকে অধিকাংশ সময় বগুড়া শহরে অবস্থান করতে হয়। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রজেক্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি রাতের আঁধারে জাল ফেলে প্রজেক্ট থেকে মাছ ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তোলা মাছের প্রজেক্টটি নিয়ে তিনি বর্তমানে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতিই নয়, প্রজেক্টে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীর জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কার্যকর ফল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনগত সহায়তার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
অভিযোগের সাক্ষী হিসেবে মো. দুলাল মিয়া (৪৫), পিতা-মৃত কছিম উদ্দিন এবং জিহাদ, পিতা-জাকির, উভয় সাং-পাকুল্লা, থানা-সোনাতলা, জেলা-বগুড়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আরও কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাছের প্রজেক্ট ও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

