দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের নেতা তারেক রহমান, এমপির সভাপতিত্বে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সভা শেষ হয় রাত ৯টা ২০ মিনিটে।
সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দলীয় শৃঙ্খলা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
সভায় দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো নেতা-কর্মী অনিয়মে জড়িত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাসূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে জবাবদিহির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করার এবং জনবিচ্ছিন্ন না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্গাপূজার নিরাপত্তা
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা
সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। নির্বাচনে জনপ্রিয়, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং দলের সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি সভা-পরবর্তী বক্তব্যে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন এবং দলের ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একজন প্রার্থী দেওয়ার বিষয়েও দলের পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ
সভায় সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে। রাষ্ট্রীয় সংস্কার-সংক্রান্ত কার্যক্রম ও এ বিষয়ে দলের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশা নিয়েও আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যদের জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আগামী সংসদ অধিবেশন নভেম্বরে
পরবর্তী জাতীয় সংসদ অধিবেশনের তারিখ তখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অধিবেশন শুরু হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সাধারণত সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণের আগেই সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় শৃঙ্খলা ও সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনার জন্য এ সভা আহ্বান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সরকার পরিচালনা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দলীয় শৃঙ্খলা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে করণীয় বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দৈনিক প্রাণের শহর বিডি
www.pranershohorbd.net

