এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকার একটি আবাসিক হোটেল ‘সেঞ্চুরি মোটেল’-এ পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে অবস্থানকালে বিপুল (৪০) নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাকে কক্ষে ফেলে পালিয়ে যান সঙ্গে থাকা নারী মোর্শেদা বেগম (৩৫)। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে।
নিহত বিপুল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য বলে জানা গেছে। আটক মোর্শেদা বেগম দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে বিপুল ও মোর্শেদা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেঞ্চুরি মোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। কক্ষে অবস্থানের একপর্যায়ে বিপুল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে বিছানায় অচেতন অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
সঙ্গে থাকা মোর্শেদা বেগম বিষয়টি বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত না করে কৌশলে মোটেল ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে এবং কক্ষের দরজা আংশিক খোলা দেখতে পেয়ে মোটেলের কর্মচারীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে বিপুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, বিপুলের সঙ্গে এক নারী কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন এবং কিছু সময় পর তিনি একাই দ্রুত মোটেল ত্যাগ করেন। পরে ফুটেজ ও মোটেলে জমা দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঠাকুরগাঁও শহরের একটি এলাকা থেকে মোর্শেদা বেগমকে আটক করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া অথবা অতিরিক্ত উত্তেজক ওষুধ সেবনের কারণে বিপুলের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, আটক মোর্শেদা বেগম জিজ্ঞাসাবাদে বিপুলের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ঘটনাটি শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনার পর আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতে বোর্ডারদের পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি জোরদারের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

