এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বসতভিটার সীমানায় রোপণ করা ফলজ, বনজ ও বাঁশের চারা কেটে নষ্ট, এক গৃহবধূকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন।
থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের গোজারিয়া (মধ্যপাড়া) গ্রামের হানুফা খাতুন (৪২) উল্লেখ করেন, তার স্বামী রেজাউল করিম পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ও ক্রয়কৃত বসতভিটায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছে।
অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিবেশী মো. আব্দুল খালেক (৬০) ও তার ছেলে মো. বাকি মিয়া (৩৮) লাঠিসোটা নিয়ে তাদের বসতভিটার সীমানায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সেখানে রোপণ করা বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও বাঁশের চারা কেটে নষ্ট করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় সাত হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
হানুফা খাতুনের অভিযোগ, গাছের চারা কাটতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই স্থানে পুনরায় কোনো গাছের চারা রোপণ করলে সেগুলোও কেটে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোহাম্মদ আলী (৪০), মো. ইউসুফ আলী (৫০)সহ কয়েকজন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারী।
ভুক্তভোগী হানুফা খাতুন বলেন, “আমরা অসহায় মানুষ। আমার স্বামী প্রতিবন্ধী। আমাদের বসতভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. আব্দুল বাকি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতিবেশী গোলাম রব্বানীর কাছ থেকে ১৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বসবাস করছি। বর্তমানে বাদীপক্ষ আমাদের জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। আমরা কাউকে মারধর করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি একটি মসজিদের ইমাম। সম্মানের কথা বিবেচনা করে এতদিন নীরব ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের একটি সমাধান হয়েছিল এবং তিনি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগকারী পক্ষ স্থানীয়ভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ার পরও থানায় অভিযোগ করেছেন। প্রশাসনকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগে উল্লেখিত সম্পত্তির বিবরণ অনুযায়ী, বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার গোজারিয়া মৌজার জে.এল. নং-১৬, ডি.পি. খতিয়ান নং-৫০৪, দাগ নং-১৬৩০-এর ‘বাড়ি’ শ্রেণির ১৭ দশমিক ৫০ শতক জমিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত।

