এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সান্তাহারে সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে শিশুটির মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নিজ বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার ( ১১ জুন ২০২৬) রাতে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া মহল্লায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন – সাহেবপাড়া এলাকার আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪২), তার স্ত্রী বণ্যা বেগম (৩০) এবং প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাখা মনি (৬) স্থানীয় একটি নূরানি মাদরাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা আবু রায়হান একটি অটোভ্যান গ্যারেজে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। শিশুটির মা অন্যত্র বিয়ে করায় সে দীর্ঘদিন ধরে দাদীর কাছে বসবাস করছিল।
প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার আছরের আজানের পর রাখা মনি বাড়ি থেকে বের হয়ে সরকারি কলেজ এলাকার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, পথিমধ্যে একা পেয়ে তাকে কৌশলে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির কানে থাকা এক জোড়া সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার পর তার গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।
শিশুটি দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় বিকেল থেকেই পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তার বাবা, দাদী, ফুপুসহ স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় কিশোর আমিন আমজাদের বাড়িতে সন্দেহজনক একটি বস্তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানায়। পরে সেখানে রাখা মনির মরদেহ পাওয়া গেলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আমজাদ ও তার স্ত্রীকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী বাবুকেও আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে গেলে উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
নিহত শিশুর বাবা আবু রায়হান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এক জোড়া সোনার দুলের লোভে আমার নিষ্পাপ মেয়েটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে সোনার দুলের লোভে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক নারীকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি শিশুকে ঘিরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

