এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২ হাজার পিস নিষিদ্ধ ঘোষিত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার এক কথিত মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম (৩৯)। তিনি মৃত নূর আহমদের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়া সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী একটি মাদকের চালান ওই মহাসড়ক দিয়ে পাচার হতে পারে এমন খবর পেয়ে ডিএনসির একটি বিশেষ দল বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল এলাকায় অবস্থান নেয়।
এ সময় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী ‘অরিন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী কোচকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে গাইবান্ধার দিকে চলে যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে রেইডিং টিম কোচটির পিছু নেয়।
একপর্যায়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হুদা মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে কোচটিকে থামানো হয়। পরে বাসটির এ-৪ নম্বর আসনে বসা টিকিটবিহীন যাত্রী আব্দুল করিমের দেহ ও বহনকৃত ব্যাগ তল্লাশি করে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করে তাকে আটক করা হয়।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ইয়াবা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মাদক চালানটির উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়ার পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানানো হয়।

