এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের সোনাহাটা বাজারে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ ঘটনায় নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল চুরি হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কফিনুর মন্ডল জানান, তিনি সোনাহাটা বাজারের আলহাজ্ব ইয়ার আলী মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে মুদিখানা, ল্যাব এবং গদি-তোশকসহ বিভিন্ন পণ্যের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো গত ২৯ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। পরদিন ৩০ মে সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে দোকানে এসে শাটারের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে চুরির ঘটনা তার নজরে আসে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত কৌশলে দোকানের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি খালি বাসাকে ব্যবহার করে প্রথমে ওই বাসার দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বাসার ভেতর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘরের সিলিং কেটে দোকানের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা দোকানের ক্যাশবাক্সের তালা ভেঙে নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি দোকানে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান মালামালও চুরি করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন মালামালসহ সর্বমোট প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চুরির ঘটনাটি জানাজানি হলে বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অনেকেই এটিকে একটি সুপরিকল্পিত চুরি বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহলের অভাব থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চোরচক্র শনাক্তকরণ এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, বাজার এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদার করা হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কফিনুর মন্ডল সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে।

